প্রশাসনের দ্বৈতনীতি:একদিকে কঠোর অভিযান অন্যদিকে শিথিলতা:করোনার প্রকোপ বাড়লে দায় কার?

প্রকাশিত: 11:41 AM, December 11, 2020

ক,দিন থেকেই ভাবছি লিখবো লিখবো করে।একবার লেখার জন্য দু,পা আগালে আবারো ও পাঁচ পা পিছিয়ে যাচ্ছি।কারন গত কয়েক সপ্তাহে আমি একটা দারুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।আর তা হলো যদি কারো সামনে তার বিষয়ে সত্যি কথা বলা যায়,উচিৎ কথা বলা যায় তবে তাদের কাছে খারাপ হওয়াটা নিতান্তই স্বাভাবিক ব্যাপার।তারপরও একটা বিষয়ে আমার খুবই খটকা লেগে আছে।আজ কয়টা দিন এসব ভেবে ভেবে আমার দুচোখে ঘুম নেই।অনেক প্রশ্ন আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে লিখতে বসে গেলাম।আমরা চুয়াডাঙ্গা বাসী সকলে জানি বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলা বাসী পুরোপুরি অবগত।

 

চুয়াডাঙ্গা জেলার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার স্যারের সার্বিক দিক নির্দেশনায় দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান স্যার, দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)মহিউদ্দীন স্যার করোনাকালীন এ আপতকালীন সময়েও দিনরাত ছুটে চলেছেন সাধারন মানুষকে করোনামুক্ত রাখতে।করোনা থেকে সাধারন মানুষকে দূরে রাখতে নানাবিধ প্রচার প্রচারনা,সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের চেষ্টা করা,সকলকে মাস্ক পরিধানে সচেতন করা সহ দিনরাত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছুটে চলেছেন এ দুজন প্রশাসনের কর্মকর্তা।অফিসিয়াল হাজার কর্মব্যাস্থতা, বিভিন্ন প্রোগাম শেষ করে ছুটির পরও ছুটছেন উপজেলার একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত।এবার আসি অন্য একটা আলোচনায়।মনে করুন কোন ব্যাক্তির ৫ কাঠা জমির একটা ছোট পুকুর রয়েছে।পুকুরটিতে দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ রয়েছে। পুকুরটিতে তুলনামূলক পানি কম হওয়ায় পুকুরে থাকা সব মাছ ধরার জন্য পুকুরমালিক ৫ জনকে নিয়ে নেমে গেলেন পুকুর ছেকতে(পুকুর থেকে পানি উঠাতে)। পুরো দমে তারা পানি ছেকতে লাগলেন। কিন্তু পরে দেখা গেলো পিছন থেকে সেচপাম্পের নালার পানি ক্ষিপ্র গতিতে তার পুকুরে প্রবেশ করছে। আচ্ছা বলুনতো এই ভাবে যদি পিছন থেকে সেলো মেশিনের পানি পুকুরে প্রবেশ করে আর পুকুর মালিক যদি ২০ জন লেবার নিয়েও দিনরাত পুকুর ছেকে তবে কি পুকুরের পানি শেষ করা সম্ভব না কাদার নিচে থাকা সব মাছ ধরা সম্ভব।গল্পোটি বলার কারন আমরা সকলে অবগত আছি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন।সাথে পুলিশ প্রশাসন ও ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন এখনো রাখছেন। তাঁরা সকলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরিধান করা,হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজার করা সহ নানাবিধ বিষয়ে সচেতন করছেন।উপজেলাবাসীকে করোনার হাত থেকে বাঁচাতে অনেক সময় নিচ্ছেন শক্ত পদক্ষেপ।আর প্রশাসনের এ অক্লান্ত পরিশ্রমের কারনে দামুড়হুদায় উপজেলায় করোনা সুবিধা করতে পারেনি। উপজেলাবাসী থেকেছে করোনামুক্ত। করোনায় মৃত্যু্র হার ও একেবারেই নেই বললেই চলে।

 

অপরদিকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পাড়া মহল্লায় দেওয়া হচ্ছে ওয়াজ মাহফিলের অনুমতি।আর প্রতিটি ওয়াজ মাহফিলে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মা-বোন, ভাই এরা হাজির হচ্ছেন।আপনারা সকলে জানেন যেখানে ওয়াজ মাহফিল হয় সে রাস্তায় চলাচলের মত অবস্থা থাকেনা এত পরিমান জনসমাগম হয়।মাহফিলের ছেলে এবং মেয়েদের বসার স্থান থাকে কানায় কানায় পূর্ন।বিশেষ করে স্কুল কলেজ পড়ুয়া,মাদ্রাসায় পড়া কোমলমতি ছেলে মেয়েরা অধিকহারে এসব ওয়াজ মাহফিলে আসে ।গাদাগাদি ঠাসাঠাসি করে বসে থাকে সকলে।এখানে কে করোনা নেগেটিভ কে পজেটিভ তার কোন বালাই নেই। কোন এলাকার সংক্রমিত লোক এখানে প্রবেশ করে আরো মানুষকে করোনা সংক্রমিত করছে কিনা তারও কোন নিশ্চয়তা নেই।নেই মাস্ক পরিধানের কোন বালাই।সামাজিক দূরত্ব বজায় যেন এখানে হাস্যকর কোন বাক্য।হ্যান্ডস্যানিটাইজার সে তো অনেক দূরের ব্যাপার।

 

এভাবে ওয়াজ মাহফিলে হাজার হাজার লোককে একত্রিত করার সুযোগ দিয়ে,স্কুল কলেজ বন্ধ রেখে হাজার পদক্ষেপ নিয়েও কি করোনার সংক্রমন কম করা সম্ভব হবে?ওয়াজ মাহফিলে আসলে এত লোকসমাগম হলে যদি করোনা না বাড়ে তবে স্কুল কলেজ,মাদ্রাসা বসলে কেন বাড়তে পারে করোনা এটা ভেবে আমার ঘুম হারাম।গত ঈদের নামায আদায় করলাম মসজিদের ভিতর তাও অল্প সংখ্যক মানুষ নিয়ে।জুম আর নামাযেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কম মুসল্লি নিয়েও নামায পড়েছি।কিন্তু ওয়াজ মাহফিলের বেলায় কোন কিছুর তোয়াক্কা নেই।আমার অভিমত এখনই এ বিষয়ে জুরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। ধর্মীয় মাহফিলের অজুহাতে এভাবে লোকসমাগম করে যদি করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাই তবে এর দায় কে নেবে।

 

মাহফিলের আয়োজকরা কি দায় নেবে? এক বিষয়ে দ্বৈতনীতি না করে একটা সিদ্ধান্ত দিন। হয় স্কুল, কলেজ সব খুলে দিন। আর না হলে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ থামাতে এক ধারায় একই পদক্ষেপ নিন।লোকসমাগম হয় এমন সকল কর্মসূচি বন্ধ করে দিন।রাজনৈতিক মিটিং মিছিল সহ লোকসমাগম হয় এমন কর্মসূচি বন্ধের দাবী জানাই প্রশাসনের কাছে।তবেই সফলতা আসবে বলে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি।আমার লেখা পড়ে আপনাদের কোন অভিমত থাকলে তা কমেন্টস করে জানান

লেখক
সাংবাদিক মেহেদী হাসান মিলন
সাংগঠনিক সম্পাদক-দামুড়হুদা প্রেসক্লাব