মধুমালা মদন কুমার ছবির জন্য অঞ্জুকে দেওয়া হলো সোনার হার

প্রকাশিত: 7:58 PM, October 24, 2020

ইমরুল শাহেদ : বেদের মেয়ে জোসনা ছবির ব্যাপক সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে পরিচালক সাঈদুর রহমান সাঈদ অঞ্জু ও সাত্তারকে জুটি করে নির্মাণ করেন মধুমালা মদন কুমার নামে একটি ফোক ছবি। এ ছবিটির প্রযোজক ছিলেন ফারুক ঠাকুর। এ ছবিটির পরে তিনি নায়িকা বনশ্রীকে নিয়ে সোহরাব রুস্তম নামেও একটি ছবি নির্মাণ করেন। তিনি আরো কয়েকটি ছবি প্রযোজনা করেছিলেন। যাহোক, মধুমালা মদন কুমার ছবির সাফল্যে তিনি হোটেল পূর্বাণীতে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন।

 

সম্মেলনে অঞ্জুরও উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কারণ ছবির সাফল্যে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে তিনি অঞ্জুকে একটি স্বর্ণের হার উপহার দেবেন। কিন্তু অঞ্জু এলেন না। সংবাদ সম্মেলনে ফারুক ঠাকুরের পাশেই বসেছিলেন সাঈদুর রহমান সাঈদ। সম্মেলনের শুরুতে ফারুক ঠাকুর একটি লিখিত বক্তব্য সকলকে পড়ে শোনালেন। তারপর বললেন, কে কি জানতে চান প্রশ্ন করতে পারেন। আপনাদের জন্য আপ্যায়নেরও বন্দোবস্ত আছে। তারপর সবাই তাকে টুকটাক প্রশ্ন করছিলেন। অনেক সময় তার হয়ে পরিচালকও প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন। আমি বললাম, আপ্যায়ন আমার প্রয়োজন নেই। আমি শুধু দু’তিনটি বিষয়ে জানতে চাই। ফারুক ঠাকুর আমাকে বলতে বললেন।

 

আমি তার কাছে জানতে চাইলাম, ‘আপনার বক্তব্যে বলেছেন, আপনার ছবিটি দেখার বায়না ধরে একজন গৃহবধূ মারা গেছেন। সেটা আপনার সিনেমা হল থেকে কতদূরে? তার শোকে আপনি কি কোনো শো বন্ধ রেখেছিলেন ? এছাড়া যে ছবি দেখার জন্য বায়না ধরে মানুষ মারা যায়, সে ছবির সেন্সর সনদপত্র কি থাকা উচিত?’ তিনি আমার এই কৌতুহলের জবাব না দিয়ে বললেন, ‘আপনার আর কোনো প্রশ্ন আছে? থাকলে বলেন আমি এক এক করে সব প্রশ্নের জবাব দেব।’ আমি বললাম প্রশ্ন নয়, জানার আগ্রহ আছে। বললাম, ‘এই ছবিটি দিয়ে আপনি কত টাকা উপার্জন করেছেন সেটা বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু কত টাকা আয়কর দিয়েছেন সেটাতো উল্লেখ করেননি। সেটা বললে ভালো হয়।’

 

ফারুক ঠাকুর এমন অপ্রত্যাশিত প্রশ্নের মুখে পড়বেন সেটা বুঝতে পারেননি। তিনি বললেন, ‘আমি আসলে আপনাদের উপস্থিতিতে অঞ্জুকে একটি সোনার হার উপহার দেব বলে নিমন্ত্রণ করেছিলাম। এভাবে প্রশ্নের জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি আমার ছিল না। আপনার প্রশ্নগুলো আমার মাথায় থাকলো। তবে এখন আমাকে ক্ষমা করতে হবে।’ এখানেই তিনি সংবাদ সম্মেলন শেষ করলেন। এরপর সবাই ছুটলেন আপ্যায়িত হতে আর আমি ছুটলাম বাড়ির দিকে।