রাজশাহীতে খেজুর গাছের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছে গাছিরা

প্রকাশিত: 12:24 PM, October 20, 2020

সৌমেন মন্ডল, রাজশাহী ব্যাুরোঃ

শিউলি ফুল ভোর রাতে রাস্তা সাদা হয়ে পরে আছে। গ্রামের মানুষ একটু আগেই বুঝে গেছে,শীত আসছে। কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। শীতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছের রস। রাজশাহীর প্রতিটি উপজেলাতে কম বেশি খেজুর রস সংগ্রহের জন্য গাছিরা খেজুরগাছ কাটার কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। আর সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই গাছ থেকে রস সংগ্রহের কাজ শুরু হবে।

 

কয়েকবছর আগেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে, খেতের আইলে, ঝোপ-ঝাড়ের পাশে ও রাস্তার দুই ধার দিয়ে ছিল অসংখ্য খেজুরগাছ। কোনো পরিচর্যা ছাড়াই অনেকটা প্রাকৃৃতিকভাবে বেড়ে উঠতো এসব খেজুরগাছ। প্রতিটি পরিবারের চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত রস দিয়ে তৈরি করা হতো সুস্বাদু খেজুরের গুড়।

 

গ্রামীণ জনপদে সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাবে পুকুরের পাড়ে রাস্তার ধারে পরিবেশবান্ধব খেজুরগাছ এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। ইট ভাটার রাহুগ্রাসে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার বেশি হওয়ার কারণে যে পরিমাণ গাছ চোখে পড়ে তা নির্বিচারে নিধন করায় দিনদিন খেজুরগাছ কমছেই। এখনো শীতকালে শহর থেকে মানুষ দলে দলে ছুটে আসে গ্রামবাংলার খেজুর রস খেতে। শীতের পুরো মৌসুমে চলে রস, গুড়, পিঠা, পুলি ও পায়েস খাওয়ার পালা। এছাড়া খেজুর পাতা দিয়ে আর্কষণীয় ও মজবুত পাটি তৈরি হয়। এমনকি জ্বালানি কাজেও ব্যাপক ব্যবহার হয়।

 

বাঘা পৌর সভার ১ নং ওয়াডের মলয় কুমার ও সুজিত কুমার বলেন – আমরা পেশাগত কারণে প্রায় প্রতি বছরই খেজুরগাছ মালিকদের কাছ থেকে চার মাসের জন্য গাছ ভেদে পাঁচ থেকে সাত কেজি করে খেজুরের গুড় দিয়ে গাছগুলো আমরা নেই। চাহিদামতো খেজুরগাছ না পাওয়ার কারণে রস কম হওয়ায় আশানুরূপ গুড় তৈরি করতে পারিনা। বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে না দিয়ে জীবন-জীবিকার জন্য এই পেশা ধরে রেখেছি।

 

তবে যেভাবে খেজুরগাছ কাটা হচ্ছে অল্পদিনের মধ্যেই এই এলাকায় আর আমাদের ব্যবসা হবে না। বর্তমান বাজারে আখের গুড় চিনি যে মূল্যে বেচাকেনা হচ্ছে তার চেয়ে মানসম্পন্ন খেজুরের গুড়ের দাম এবছর কিছুটা বেশি হবে এমনটাই আশা করছেন গাছিরা। শীত একটু বেশি পড়তে শুরু করলে আত্মীয়-স্বজন আনা নেয়া ও পিঠা-পুলির উৎসবে খেজুর গুড়ের দাম ও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সে সময় আমাদের লাভ একটু বেশি হয়।

 

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেশের প্রায় অঞ্চলেই খেজুরগাছ এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। গাছিদের খেজুরগাছ কাটার কাজটি শিল্প আর দক্ষতায় ভরা।কিন্তু কিছু অসাধু ব্যাবসাহি গুড় এর সাথে চিনি মিসিয়ে বেশি অর্থ উপার্জন করতে চাই।বাজারে প্রতি বছর এর ন্যায় এবারও অভিযান চালানো হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।