শেষ বার্তায় আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে যা বলেছিল নয়ন বন্ড

প্রকাশিত: 12:13 PM, October 2, 2020

ভোরের কুমিল্লা ডেস্ক রিপোর্ট //
বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার বাদী থেকে আসামী হয়ে যাওয়া আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয় জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। নানা কারণেই মিন্নি বরাবরই আলোচিত এবং সমালোচিত হয়েছেন। ১০ আসামির মধ্যে বাকি ৪ জন খালাস পেয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আসাদুজ্জামানের আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

 

বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলা নিয়ে নানা রকম তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে বেশিরভাগ তথ্য উঠে এসেছে মিন্নি, রিফাত ও নয়নের ফোন কল সূত্রে রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে মিন্নির সঙ্গে নয়ন বন্ডের কথোপকথোন-সহ মেসেজ আদান-প্রদানের তথ্য উদ্ধার করে পুলিশ।

 

বরগুনা জেলা পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্যের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, মিন্নি একটি সিম ব্যবহার করতেন যেটি নয়ন বন্ডের দেয়া। সিমটি নয়ন বন্ডের মায়ের নামে রেজিস্ট্রেশন করা। পুলিশের দাবি, রিফাত শরীফের সঙ্গে বিয়ের পরও নয়নের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ওই সিমটি ব্যবহার করত মিন্নি।

 

হত্যাকাণ্ডের দিন সকাল ৯টা ৮ মিনিটে ওই নম্বর দিয়েই নয়ন বন্ডকে কল করে ৬ সেকেন্ড কথা বলেন মিন্নি। এসময় তাদের ৪০ সেকেন্ড কথা হয়।হামলার পর বেলা ১১টা ৩১ মিনিটে নয়ন বন্ড মিন্নিকে একটি এসএমএস পাঠিয়েছিলেন। পরে রি`ফাত শরীফ মারা যাওয়ার পর বিকেল ৪টার কিছু সময় আগে নয়ন বন্ড মিন্নির কাছে আরেকটি এসএমএস পাঠিয়েছিলেন।

 

পাঠানো ওই এসএমএসটিতে লেখা ছিল, আমারে আমার বাপেই জন্ম দেছে। মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নেয়া ওই পুলিশ সদস্যের বরাতে গণমাধ্যমে বলা হয়েছিল, রিমান্ডে মিন্নির কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিন্নি বলেছেন, রিফাত শরীফকে মারার পরিকল্পনার সময় মিন্নি নয়ন বন্ডকে বলেছিলেন, তুমি যদি রিফাত শরীফকে মারতে পার, তাহলে বুঝব তোমারে তোমার বাপেই জন্ম দিছে।

 

এদিকে এ মামলায় বুধবার ফাঁসির আদেশ পেয়েছে রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো. হাসান, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। খালাস পেয়েছে মো. মুসা, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর এবং কামরুল ইসলাম সাইমুন। বুধবার সকালে ‌ক‌ঠোর নিরাপত্তার মধ্য দি‌য়ে বেলা ১১টা ৪০ মি‌নি‌টে কারাগার ‌থে‌কে আসামি‌দের আদাল‌তে আনা হয়।

 

দুপুর ১টা ২০ মিনিটে বরগুনা জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ রায় ঘোষণা শুরু করেন। এ সময় জামিনে থাকা আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি ও কারাগারে থাকা ৮ আসামি উপস্থিত ছিলেন।

 

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন বরগুনায় রিফাতকে কুপিয়ে আহত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল নেয়ার পর তিনি মারা যান। এ ঘটনায়ে দায়ের করা মামলার ১ নং সাক্ষী মিন্নি বর্তমানে আসামি হিসেবে কারাগারে রয়েছে।