অনাহারে দিন কাটাচ্ছে পাকিস্তান খাঁদের আদিবাসী

প্রকাশিত: 11:23 PM, May 1, 2020

গোলাম কিবরিয়া পলাশ…
করোনাভাইরাসের কারণে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে ফতুল্লা থানার পাকিস্তান খাঁদের আদিবাসী। নারায়নগঞ্জ জেলার সর্বত্র চলছে অঘোষিত লকডাউন। শুধু ওষুধের দোকান ব্যতিত দিনে কিছু সময়ের জন্য খোলা থাকছে নিত্যপণ্যের দোকান ও কাঁচা বাজার। সামাজিক দূরত্ব বন্ধ রয়েছে শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন পাকিস্তান খাদের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষেরা।

 

স্থানীয় জুয়েল রানা বলেন,পাকিস্তান খাদ এলাকা ফতুল্লা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের অন্তভুক্ত। প্রায় হাজার হাজার পরিবারের বসবাস পাকিস্তান খাদ এলাকায়। যার বেশিরভাগ একেবার নিন্ম আয়ের খেটে খাওয়া সাধারন দিনমজুর। লক ডাউনের কারনে এ সকল অভাবী মানুষের তিন বেলা খাওয়া তো দুরের কথা দু বেলাই ঠিক মতো তারা খেতে পায়না। তবে গত কয়েকদিন পূর্বে ফতুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপনের পক্ষ থেকে পাকিস্তান খাদ এলাকায় কিছু পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া হয়। যা চাহিদার তুলনায় একেবারেই সামান্য ছিলো।

 

পাকিস্তান খাদ এলাকার ভ্যান গাড়ি চালক শহিদ জানায়,চার সদস্যের সংসার তার।তার উপার্জনেই চলে তার সংসার। কিন্তু প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে এক মাসের ও বেশী সময় ধরে তিনি গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামতে পারছেন না।মাঝে দু- চারদিন ভ্যান গাড়ি নিয়ে নামলে ও বিভিন্ন ডাইং কারখানা বন্ধ থাকায় খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে তাকে।মাঝে একদিন মাত্র ৪০০ টাকা উপার্জন করেছিলেন।তাই দিয়ে আলু, চাউল আর ডাল কিনে বাসায় নিয়ে যান তিনি।সেই কেনা চাউল, ডাল,আলু প্রায় শেষ।এখন না খেয়ে থাকার উপক্রম হয়েছে।সরকারী বা বেসরকারী কোনো প্রকার ত্রান জোটেনি তাদের ভাগ্যে।

 

মানুষের বাসায় কাজ করে তিন সদস্যের সংসার চালানো রহিমা বেগম জানান,করোনার কারনে যে বাসায় কাজ করতেন সে বাসার মালিক গত এক মাস পূর্বে বেতন দিয়ে কাজ করতে আসতে নিষেধ করে দিয়েছে।তবে মাস শেষে এসে বেতন নিয়ে যেতে বলেছে।তিনি জানান, যে বাসায় কাজ করতেন বাড়ীর মালিক প্রতিদিনই তার ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের জন্য খাবার দিয়ে দিতেন।এখন সে খাবার না পাওয়ায় ছেলে মেয়ে নিয়ে তাকে অনেকটাই না খেয়ে দিন-যাপন করতে হচ্ছে।তাদের ভাগ্যেও মিলেনি কোনো প্রকার ত্রাণ।

 

রুপা নামক এক কিশোরীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন তার বাবা একজন ভ্যান গাড়ি চালক।করেনার কারনে তার বাবা কাজে যেতে পারছেনা।আর তাই অনেকটা না খেয়েই দিন চলছে তাদের। তাই নারায়ণগঞ্জ প্রশাসনের নিকট আবেদন যেন অতি তারাতাড়ি আমাদের এলাকায় আমার মত অসহায় দরিদ্র মানুষদের পাশে যেন থাকে, আমরা যেন হাসিমুখে দু বেলা খাবার খেয়ে দিন কাটাতে পারি, এটাই আমাদের চাওয়া।
-আমার প্রিয় ছোট ভাই সোহাইল এর মাধ্যমে সংবাদ সংগ্রহ করি।