বাকেরগঞ্জের ফরিদপুর ইউনিয়নে জাল-জালিয়াতি করেই চলেন সুলতান খান

প্রকাশিত: 11:08 PM, June 23, 2020

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৬নং ফরিদপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভাতশালা গ্রামের মৃত সেরাজ উদ্দিন খানের পুত্র ভূমিদস্যু সুলতান খান (৬৩)। তবে এলাকায় মানুষ তাকে ভূমির দালাল হিসেবেই বেশি চেনে। এমনকি তাকে ‘ভূমিদস্যু সুলতান বলেই ডাকে অনেকে।

বহু অপকর্মের হোতা সুলতান খান। দলিল জালিয়াতি থেকে শুরু করে ভূমি দখল, রেকর্ড জালিয়াতি, ভুয়া নামজারি করে রেজিস্ট্রির ব্যবস্থা করে দেওয়া- এমন অসংখ্য অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। এমনকি জাল দলিল চক্রের সক্রিয় সদস্যও তিনি।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ,প্রতিদিন তার একটাই কাজ, ভূমি অফিসে যাওয়া, দালালি করা। আর নিরীহ মানুষের দুর্বলতার সুযোগে হয়রানি করা। তিনি জাল দলিলের মাধ্যমে অন্যের ভূমি দখল করে চলেছেন। একইসঙ্গে জাল দলিল বানিয়ে অন্যকেও জমি দখল করার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। বিনিময়ে পাচ্ছেন বড় অংকের টাকা। শুধু তা-ই নয়, সুলতান খান প্রতিনিয়ত নিজের জন্য বা টাকার বিনিময়ে অন্যের জন্য রেকর্ড জালিয়াতি, ভুয়া পর্চা, খতিয়ান ও নামজারিও করে আসছেন। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ মানুষ।

 

পূর্ব ভাতশালা গ্রামের মৃত্যু কাছেম কারিগরের মেয়ের জামাই সুলতান খান। ০১/০১/৬৩ এই তারিখে একটি জাল দলিল করে তার জামাই ভূমিদস্যু সুলতান খান। মৃত্যু কাছেম কারিগরের মেয়ে বলেন আমার বাবা আমার বোন জামাইকে জমি দেয় নি। সে জমি জাল করে দখল করেছে। ঐ তারিখে যদি জমি কাছেম অালী তার জামাই সুলতানকে দিয়ে থাকে তখন তার বয়স মাত্র ৬ বছর দেখায় জাতীয় ভোটার অাইডি কার্ডে। এবং সুলতান খানের পুত্র অানোয়ার হোসেন খান (৩০) বলেন,আমার বাবা প্রতারনা করে জাল দলিল করেছে।

 

এছাড়া কৌশলে সাধারণ মানুষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করা তার আরেকটি জালিয়াতির পদ্ধতি। এভাবে তিনি উভয়পক্ষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ধান্দা বাস্তবায়ন করেন। একইসঙ্গে খাস জমি লিজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে নিম্ন আয়ের সহজ-সরল মানুষকে ঠকানোও তার একটি কাজ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,এ কাজে সুলতান একা নন। তার সঙ্গে আছে ফরিদপুর ইউনিয়নে একটি চক্র। আর এ চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সুলতান খান। তারা পরস্পরের যোগসাজশে জাল দলিল তৈরি করে সেটা দিয়ে আরেকজনকে জমি দখল করে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। এর বিনিময়ে পান মোটা টাকা। যা আবার ভাগ হয় তাদের চক্রের সদস্যদের মধ্যে।

 

এছাড়া ভূমি সংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমাও তাদের হাত দিয়েই বেশি চলে। এমনকি অভিযোগ আছে, কেউ যদি জায়গা বিক্রি করতে চান, তাহলে তাদের একটা পরিমাণ টাকা আগে দিতে হয়। না হলে রেজিস্ট্রি করার সময় ঝামেলা লাগিয়ে দেবেন বলে হুমকি দেন। বাকেরগঞ্জ উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে তার ঘনিষ্ঠ লোক অাছে বলে নিজেকে পরিচয় দেন সুলতান। তার সঙ্গে কর্মকর্তাদের অনেকের যোগাযোগ আছে। আর এ সুবাদেই চলে তার এসব অপকর্ম। এও জানা গেছে, ভূমির সব পর্যায়ের জাল কাগজপত্র আছে তার কাছে। এমনকি জাল স্ট্যাম্প,পাকিস্তান আমলের রেপ,ভূমি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের নামে নকল করা সিল ও জাল স্বাক্ষরের ব্যবস্থাও আছে সুলতান খানের কাছে। একইসঙ্গে পুরোনো দিনের স্ট্যাম্পও আছে জাল দলিল চক্রের এই লোকের কাছে অাছে বলে জানান এলাকাবাসী।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন,সুলতান খান এলাকায় ভূমির দালাল,এমনকি ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত। জমি সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করাই তার কাজ। তার নির্দিষ্ট কোনো আয়ের উৎস নেই। জাল-জালিয়াতি করেই তিনি রাজার হালে চলেন। তিনি বলেন অামার প্রতিমাসে এক থেকে দেড় লাখ টাকা ইনকাম হয়।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির খান সুলতান সম্পর্কে বলেন, সুলতান অনেকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন,এ খবর আমিও পেয়েছি। তিনি এলাকার নিরক্ষর লোকদের জায়গার দলিলাদি নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন। ভূমি কার্যালয়ে প্রতিদিন দৌড়াদৌড়ি তার কাজ।

 

এ ব্যাপারে কথা বলতে অভিযুক্ত সুলতান খানের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

 

বাকেরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তরিকুল ইসলাম দৈনিক বর্তমান বার্তা কে বলেন,বিষয়টি জেনেছি, আমাদের কাছে কাগজটি এসেছিলো, কিন্তু আমাদেরকে মূল কপি দেখায়নি,দেখিয়েছিল ফটোকপি। সেই ফটোকপিতে যে দলিল নাম্বার থাকে,এবং যে তারিখ থাকে,এইগুলো মনে হয়েছিলো যে কিছু কিছু জায়গায় সাদা কাগজ মেরে ফটোকপি করা হয়েছে। অামরা বলেছিলাম মূল কপি দেখাতে,তহসিলদার বললো মূল কপি দেখায়নি। তাই অামাদের কাছে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়েছিলো,এবং বিষয়টি পারফেক্ট না। তাই অামরা খারিজ করে দিয়েছি। আমরা সবসময়ই এর বিরুদ্ধে কঠোর। খোঁজ-খবর নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।