করিমগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় হারানো শিশুকে ফিরে পেলেন বাবা-মা।

প্রকাশিত: 12:18 AM, June 17, 2020

 

পুলিশের প্রচেষ্টায় হারিয়ে যাওয়া ১০ বছরের রাব্বি শিশুকে ফিরে পেয়েছে তার বাবা-মা।
করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমিনুল ইসলাম এসআই অজিত বর্মণ শিশু রাব্বিকে তার বাবা সোবান মিয়া ও মা স্বপ্না বেগমের হাতে তুলে দেন।

করিমগঞ্জ থানার এসআই অজিত বর্মণ জানান সোমবার নানশ্রী কদমতলী ডিউটি করা কালে মুক্তিযোদ্ধা আমির উদ্দিনের বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিল ১০ বছর বয়সী একটি ছেলে শিশু।

বিষয়টি আমার নজরে আসার পর আমি শিশু টির অভিভাবকের খোঁজ করি।কিন্তু আশে পাশে কোথাও অভিভাবকের দেখা মিলেনি। শিশুটিকে জিজ্ঞাসা করার পর জানতে পারি।ছেলেটি কুমিল্লা হইতে হারিয়ে যায় তার সঙ্গে আর কেউ নেই।এপরিস্থিতিতে আমি বিষয়টি করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমিনুল ইসলামকে অবহিত করি।(ওসি) মমিনুল ইসলাম ছেলেটিকে থানায় নিয়ে আসার নির্দেশ দেন।

থানায় নিয়ে আসার পর পরম যত্নে শিশুটির কাছে নাম-ঠিকানা জানতে চান (ওসি) মমিনুল ইসলাম।শিশুটি তখন জানায়,তার নাম রাব্বি পিতার নাম সোবান মিয়া।মায়ের নাম স্বপ্না বেগম রাব্বির বাড়ি থানা গাছতলা জেলা চাঁদ পুর। কিন্তু বাবা-মা কিংবা আত্মীয়স্বজনের কারো মোবাইল নম্বর জানে না সে। এ অবস্থায় শিশুটিকে তার অভিভাবকের কাছে পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হন করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমিনুল ইসলাম।

মানবিক এই পুলিশ কর্মকর্তা বিভিন্ন মাধ্যমে সংগ্রহ করে তার মা বাবার মোবাইল নম্বর।মা স্বপ্না বেগম জানান,তার ছেলে রাব্বি বর্তমানে ওসি’র হেফাজতে রয়েছে।তিনি যেন এসে ছেলেকে নিয়ে যান। ছেলের প্রাপ্তি সংবাদ মাকে জানানো ছাড়াও শিশুটিকে নিজের হেফাজতে রেখে তার খাওয়া-দাওয়া সহ সার্বিক দেখা শোনাও করছেন (ওসি) মমিনুল ইসলাম।

তারপর করিমগঞ্জ থানায় গিয়ে সন্তানকে কোলে তুলে নিলে সৃষ্টি হয় এক আবেগ ঘন পরিবেশের। কান্না থামিয়ে মায়ের কোলে ওঠে রাব্বি হাসে স্বস্তির হাসি। করিমগঞ্জ থানার (ওসি) মমিনুল ইসলাম,এস আই অজিত বর্মণ এর মহানুভবতা আর প্রচেষ্টায় এভাবে বাবা-মা আর স্বজনদের ফিরে পেয়েছে ছোট্ট শিশুটি।

রাব্বির বাবা সোবান ও মা স্বপ্না জানান পুলিশ ভাইয়েরা আমাদের সমস্যা এত গুরুত্বের সঙ্গে দেখলেন,তাতে আমরা সত্যিই মুগ্ধ। তাঁরা দ্রুত সময়ে দক্ষতার সঙ্গে রাব্বিকে আমাদের হাতে তুলে দেন। এটা সত্যি মুগ্ধ হওয়ার মতোই। সাধারণ মানুষকে বলতে চাই, বিপদে পড়লে এভাবেই পুলিশ ভাইদের সাহায্য নিতে পারেন। করিমগঞ্জ থানার পুলিশ ভাইয়েরা আমাদের প্রতি যেভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন,তা বলে বোঝাতে পারব না তিনি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজটি করেছেন।

(ওসি) মমিনুল ইসলাম বলেন,ছেলেটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে, একটি ভালো কাজ করতে পেরেছি।