মনোহরগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীর পরকীয়ায় বিষপানে মৃত্যু ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন

প্রকাশিত: 6:06 PM, March 27, 2021
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি পুলিশ প্রশাসনের যোগসাজশে ধামাচাপা ;প্রেমিকার নগ্ন ছবি ও লেখা সম্বলিত মোবাইল উদ্ধার। মোবাইল ফিরে পেতে ১ লক্ষ টাকা প্রস্তাব।

আবদুর রহিম, মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা)
কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ৫নং দক্ষিণ ঝলম ইউনিয়নের ঝলম-নোয়াপাড়া গ্রামের ‘আমার স্বপ্নভিলা’ বাড়ীর প্রবাসী মোহাম্মদ আলীর মেয়ে মোসাম্মত মারিয়া আক্তার মৌসুমি (২৮) গত ১৮/০৩/২১ বৃহস্পতিবার পোমগাঁও-লাউলহরি গ্রামের ব্রাক অফিসের পাশে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের ভাড়া বাড়ীর দোতলায় বিষ পান করে। জানা যায় ঐ দিন মারিয়ার ছেলে মুজাহিদ (৭) ফোন দেন তার নানার বাড়ীতে আনুমানিক ৩ ঘটিকায়। খবর পেয়ে মৌসুমির মা-বাবা, বোন তাৎক্ষণিক ভাড়া বাড়ীতে গিয়ে দেখেন মৌসুমি বিষ পান করে চিৎকার করতেছে। মৌসুমির মা তাৎক্ষণিক মনোহরগঞ্জ ফি-আমানিল্লাহ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক বিষ পানের খবর শুনে হাসপাতালে ভর্তি নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। হাসপাতালের এক মালিকের আত্মীয় হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা করার অনুরোধে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা প্রেরণ করেন। কুমিল্লা নিয়ে যান মৌসুমির মা ও প্রেমিক মোঃ জাহিদ হাসান শান্ত। কুমিল্লা সরকারি মেডিকেলে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঐ দিন আনুমানিক রাত ১০টায় বাড়ি নিয়ে আসার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান শাহিন জিয়া ও ওয়ার্ড মেম্বার মীর হোসেন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পুলিশ-প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ঘটনা ধামা-চাপা দিয়ে পরের দিন শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মেম্বার চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে লাশ দাফন করে ফেলেন। মারিয়া আক্তার মৌসুমির স্বামী সৌদি প্রবাসী দিশাবন্দ গ্রামের আবদুল বাতেন মুন্সির ছেলে মোঃ আল আমীন তুহিনের সাথে প্রায় ১০-১২ বছর আগে বিবাহ হয়। গত এক বছর থেকে মৌসুমি তার বাবার বাড়ী ও ভাড়া বাড়ীতে থাকেন। সরেজমিনে গিয়ে একাধিক সূত্রে জানা যায় মৌসুমির স্বামী আল আমীন তুহিন কে সৌদি নেন একই গ্রামের সাহাবুদ্দিনের ছেলে কথিত প্রেমিক মোঃ জাহিদ হাসান শান্ত। ঐ সুবাদে প্রেমিক জাহিদ হাসান মৌসুমির সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে, তারপর শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। বিয়ের প্রলোভন দিয়ে বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে গিয়ে রাত যাপন ও মোবাইলে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জাহিদ। শারীরিক সম্পর্কের ফলে মৌসুমি অন্ত্বসত্বা হয়ে পড়ে। তখন সে নিরুপায় হয়ে প্রেমিককে বিয়ের জন্য ছাপ দিতে থাকেন কিন্তু লম্পট প্রেমিক বিবাহ করার কথা অস্বীকার ও ধারণকৃত ছবি ও ভিডিও অনলাইনে ভাইরালের ভয় দেখিয়ে তাকে হুমকি দেয়। মৌসুমি একথা শুনে কোন উপায় না পেয়ে বিষ পান করে। নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণকৃত মোবাইল ফিরে পেতে ১লক্ষ টাকার প্রস্তাব দেন লম্পট জাহিদ। নাম না প্রকাশ করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান স্থানীয় চেয়ারম্যান শাহিন জিয়া একই গ্রামের হওয়ায় মেয়ের পরিবারে থেকে মোটা অংকের টাকা নেন পুলিশ প্রশাসন ম্যানেজের কথা বলে এবং এ ব্যাপারে যে কোন সমস্যা সমাধান করে দিবে বলে মেয়ের পরিবারকে আশ্বস্ত করেন।
ফি-আমানিল্লাহ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, মৌসুমির মা জানান আমার বিষ খেয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা সরকারি মেডিকেলে পাঠিয়ে দেই। এ বিষয়ে আমরা মনোহরগঞ্জ থানার ওসিকে অবহিত করি।

প্রেমিক জাহিদ হাসান

আত্মহত্যাকারী মৌসুমির মা হাজেরা বেগম বিষ পানের কথা শিকার করে বলেন, আমার মেয়ে মৌসুমি আমাদের বাড়ী থেকে গিয়ে ভাড়া বাড়ীতে উঠে। সুন্দরভাবেই ছিল এবং জামাই আমাদের সাথে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ রাখতো। জাহিদের সাথে পরকীয়ার কথা জানতে চাইলে বলেন সব সময় ফোনে কথা বলতে দেখা যেতো। কিন্তু আমরা জানি তুহিনের সাথে কথা বলে। মীর হোসেন মেম্বার এবং চেয়ারম্যান প্রশাসন ম্যানেজ করবে বলে আশ্বস্ত করায় আমরা লাশ দাফন করি।

 

লম্পট প্রেমিক জাহিদের বাবা বলেন, জাহিদ নোয়াখালি বেড়াতে চলে গিয়েছে। এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।
তুহিনের বাবা বলেন, আমার ছেলের বউ তার বাবার বাড়ী ও ভাড়া বাড়ীতে থাকতেন । ঐ দিন আমাদেরকে মৌসুমির আম্মা মেয়ে স্ট্রক করে বলে জানায়। তুহিনের বড় ভাই কামরুজ্জামান বলেন, লম্পট জাহিদের মোবাইল ফোন জব্দ করেছি আমরা, সকল তথ্য সংগ্রহের পর আলোচনা করে আমরা মামলায় যাবো।

 

চেয়ারম্যান শাহিন জিয়া বলেন, আমার গ্রামের লোক মৌসুমির মা আমাকে তার মেয়ে ভাড়া বাড়ীতে স্ট্রক করে মারা গেছে বলার পর আমি ওসি কে ফোন করে জানাই।
এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত মাহবুব কবির বলেন, আমি ঘটনাটি জানি না। আপনারা আমাকে তথ্যগুলি দেন, আমি ওসি মহোদয়ের সাথে কথা বলে ব্যাবস্থা নিবো।

আবদুর রহিম, মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা)