নবীগঞ্জের আউশকান্দিতে ইমাম কর্তৃক কিশোরী ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ৷

প্রকাশিত: 11:31 PM, March 25, 2021

হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি //
বিচারের বানীতে যেন নীরবে নিভৃতে কাঁদে! রক্ষক যখন ভক্ষক হয়! সেটা যদি ঘটে আবার কোন ধর্মীয় শিক্ষক মসজিদের ইমাম দ্বারা, এই কুকর্ম কি মেনে নেওয়ার মতো? হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জে ঘটেছে এমনই একটি জঘন্যতম অনৈতিক কর্মকান্ড৷

 

উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের আমুকোনা গ্রামে ৬ষ্ট শ্রেণীর এক ছাত্রী(১৪)কে একাধিকবার ধর্ষণের ঘটনায় মাওঃ সামছুল ইসলাম নামের মসজিদের এক ইমামকে মসজিদের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন মসজিদ কমিটি। তবে রহস্যজনক কারনে তাকে আইনের হাতে তুলে দেননি মাতব্বর গন,অভিযোগ স্থানীয়দের ৷

 

জানাজায়, ওই ছাত্রী ইমামের কাছে আরবি শিক্ষা গ্রহণ করতো কিশোরী এই সুযোগে মসজিদের ইমাম মাওলানা সামছুল ইসলাম তিনি ওই ছাত্রীকে প্রায়ই ধর্ষণ করতেন বলে অভিযোগ করেন নির্যাতিত কিশোরী ধর্ষিতা নিজেই।

 

এই ঘটনা এলাকায় লোকমুখে জানাজানি হলে মসজিদের ইমামকে মসজিদ থেকে অব্যাহতি দিলেও মসজিদ কমিটি তাকে আইনের হাতে সোপর্দ না করে জামাই আদর করে পালাতে সহায়তা করেন কতিপয় প্রভাবশালীরা৷ এদিকে ভিকটিমের পরিবার প্রভাবশালীদের ভয়ে আইনের দ্বারস্থ হননি৷

 

এঘটনায় এলাকায় আলোচনা সমালোচনা র ঝড় বইছে৷ মেয়েটির অসহায় দিনমজুর পিতা না পারছেন সহিতে, না পারছেন ধর্ষককে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে৷ এক প্রশ্নের জবাবে ধর্ষিতার পিতা বলেন, আমি আমার পেটের তাগিদে দিন মজুরের কাজে, নিজ জেলা শহরের বাইরে সবসময়ই থাকতে হয়,তাই এই বিষয়টি এতদিন অবগত ছিলাম না৷ তাই আজকে বিষয়টি শোনে আমি হতবাক৷তবে রহস্য জনক কারনে ও গ্রামের প্রভাবশালীদের ভয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নিতেও ভয় পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন৷

 

ধর্ষক ইমাম একই উপজেলার দূর্লভ পুর গ্রামের বাসিন্দা, তিনি বিগত ৫ বছর ধরে আউশকান্দি ইউনিয়নের আমুকোনা জামে মনজিদের ইমাম হিসেবে চাকরি করছেন।

 

ধর্ষিতা ভিকটিম জনৈকা কিশোরী জানায় সে স্থানীয় মাদরাসায় ৬ষ্ট শ্রেণীতে লেখা পড়া করে৷ সে প্রতিদিন সকালে মসজিদে গ্রামের অন্য শিশু-কিশোরদের সাথে সে গ্রামের মসজিদে ইমাম সামছুল ইসলামের নিকট ধর্মীয় শিক্ষা আরবি পড়তে যেতো। পড়া শেষে সবাইকে ছুটি দিলেও ধর্মীয় শিক্ষক ইমাম সামছুল ইসলাম তাকে ছুটি দেননি। ঝাড়ু দেওয়ার কথা সহ বিভিন্ন কাজের অজুহাত দেখিয়ে তিনি কিশোরীকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে যাইতেন।

 

পরে ঘরের দরজা বন্ধ করে ইমাম তাকে জোর করে ধর্ষণ করেন। এর পর থেকে একাধিক বার প্রায়ই তার সাথে এভাবে নানা হুমকি দেখিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে এভাবেই তার সাথে অনৈতিক কাজ করেন ইমাম সামছুল৷ মেয়েটি ভয়ে বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে বুকে চেপে রাখে,অবশেষে ইমামের সন্দেহজনক আচরণে ও মেয়েটি কে প্রতিদিনই ইমামের কক্ষে নিয়ে আটকে রাখার ঘটনায় মেযের পরিবারের লোকজন ও পাড়া প্রতিবেশী ভিকটিমকে জিজ্ঞেস করলে সে এই ঘটনার বর্ণনা দেয়৷ অবশেষে এরপর গত ১৬ মার্চ একইভাবে তাকে আবারো স্থানীয় গোপলার বাজারে একটি বাসাতে তাকে নিযে এভাবেই ধর্ষণ করা হয়৷

 

এসব কথা কারো কাছে বললে তাকে মেরে ফেলা হবে বলেও ছাত্রীকে শাসিয়ে দেন ইমাম। লাজ শরমের ভয়ে কাউকে না বললেও বাড়িতে এসে তার মা’ সহ প্রতিবেশী এক দাদীর নিকট বিষয়টি খুলে বলে মেয়েটি৷ এখবর গ্রামবাসী তথা মসজিদ কমিটির লোকজনের মধ্যে জানাজানি হলে, তাকে মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন৷

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের অনেকেই বলেন, শবে বরাতের পরে বিষয়টি সামাজিকভাবে মিমাংসা করার কথা রয়েছে, এজন্য মেয়েটির পরিবার আইনের আশ্রয় নেয়নি৷
এব্যাপারে অভিযুক্ত ইমাম সামছুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমি মেযেটিকে কখন ধর্ষণ করেছি, আমার মনে নেই,আমি এসব করি নাই,আমার মোতাওয়াল্লী সাহেব জানেন,এক প্রশ্নের জবাবে বলেন তিনি অসুস্থতার জন্য ছুটিতে গেছেন৷ এসব কথা বলেই মোবাইলের লাইন কেটে দিয়ে সুইচ অফ করে রেখে দেন,পরে তার সাথে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও সম্ভব হযনি৷

 

এলাকার সচেতন মহলের দাবী এই ধর্ষক ইমামকে তড়িৎ গতিতে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবী জানান অনেকেই৷এব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি ডালিম আহমেদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,এঘটনায় মসজিদ কমিটি ধর্ষককে আইনের হাতে তুলে না দিয়ে অব্যাহতি দিয়ে তারা দ্বায়বার এড়াতে পারেননা এবং ভিকটিমের পক্ষথেকে এখনো কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে৷