করিমগঞ্জে নববধূ হত্যার দায়ে শ্বশুরবাড়ির ছয় জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড।

প্রকাশিত: 6:22 PM, February 22, 2021

মোঃ জনি হোসেন করিমগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
করিমগঞ্জে বিয়ের মাত্র ১৫ দিন পর নববধূ রুবা আক্তার (১৮) কে হত্যার দায়ে দুই চাচা শ্বশুর ও দুই চাচী শাশুড়িসহ মামলার ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন আদালত এছাড়া রায়ে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (২২ফেব্রুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুুর রহিম আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ছয় আসামি হচ্ছে- করিমগঞ্জ উপজেলার ভাটিয়া মোড়লপাড়া গ্রামের মোঃ তাহেরের মেয়ে লুৎফা (৩০), মৃত মীর হোসেনের ছেলে মোঃ সোরাব (৪৫), তার স্ত্রী মোছাঃ জোসনা (৪০)ও ছেলে মোঃ শরীফ (২২), মৃত হালু মিয়ার ছেলে মুসলিম (৫৫) ও তার স্ত্রী নূর নাহার বেগম (৪০)।অন্যদিকে নিহত রুবা আক্তার এই গ্রামের মৃত আবু বক্কর সিদ্দিকের মেয়ে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, রুবা আক্তারের সঙ্গে ২০১১ সালের ১৯ মে তারই চাচাতো ভাই মৃত আব্দুছ কুদ্দুছের ছেলে শামীমের (২২) পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। উভয়ের দাদা-দাদীর মৃত্যুর আগে ওছিয়ত মোতাবেক দু’জনের মধ্যে বিয়েটি হয়েছিল।

কিন্তু এ বিয়ে শামীম ও তার চাচা-চাচীসহ পরিবারের অন্যরা মেনে নিতে পারেনি। এর জেরে আসামিরা আক্রোশে পরস্পর যোগ সাজশে একই উদ্দেশ্যে নববধূ রুবা আক্তারকে ২০১১ সালের ৩ জুন দিবাগত রাতে বসতঘরে বা বাহিরে নিয়ে গলাটিপে হত্যা করে লাশ বাড়ির পেছনে ডোবায় ফেলে রাখে।

এ ঘটনায় পরদিন ৪ জুন নিহতের বড় ভাই মোঃ আল আমিন বাদী হয়ে শামীমসহ সাতজনের নামাল্লেখ করে করিমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা (নং-০৩) দায়ের করেন। পরে তদন্তকালে নিহতের স্বামী শামীমকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা করিমগঞ্জ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) খোন্দকার শওকত জাহান ২০১১ সালের ৩০ ডিসেম্বর তদন্ত শেষে ছয় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

সাক্ষ্য-জেরায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) জনাকীর্ণ আদালতে বিচারক রায় প্রদান করেন।রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি এডভোকেট সৈয়দ শাহজাহান এবং আসামি পক্ষে এডভোকেট অশোক সরকার মামলাটি পরিচালনা করেন।