চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস

প্রকাশিত: 12:07 PM, February 2, 2021

হাফিজুর রহমান // 
চুয়াডাঙ্গার উপর দিয়ে তীব্র থেকে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েকদিন ধরে চুয়াডাঙ্গার উপর দিয়ে তীব্র থেকে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল ইসলাম জানান, এ শীত মৌসুমে জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। শৈত্যপ্রবাহ বেশ কয়েক দিন থাকতে পারে। ঠান্ডা বাতাসের কারণে মানুষের দুর্ভোগ বেশি।

গতকাল সোমবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

প্রচণ্ড শীতের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া ছিন্নমূল মানুষ। কয়েকদিন ধরে চলা শীতের প্রকোপে শিশু ও বয়স্করা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি।

শীত নিবারণের জন্য ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লেগেছে। একাধারে শীতের প্রকোপ বাড়তে থাকাই সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া ছিন্নমূল মানুষ।

প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে কাজের আশায় শহরে এসে কাজ না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাদের। সারাদিন বসে থেকেও মিলছে না কোনো কাজ।

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোগীর সংখাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বৃদ্ধি পাওয়া রোগীদের মধ্যে শিশু ও বয়স্করাই বেশি। চিকিৎসকরা বলছেন শীতের প্রকোপ বাড়ার কারণেই শিশু ও বয়স্কদের ঠান্ডাজনিত রোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় গিয়ে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন।

 

রাস্তার ধারে খড়-কুটো জ্বেলে কোনো রকম শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন ছিন্নমূল মানুষ। প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বাইরে বের হচ্ছেন না। গরম কাপড়ের দোকানেও বেড়েছে বেচাকেনা।

 

চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসান জানান, শীতের কারণে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ ৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।