বাকেরগঞ্জের ফরিদপুরে পরকীয়াও মাদকাসক্তের কারণেই স্ত্রী মলিকে তালাক দিয়েছে শিক্ষক তুরান

প্রকাশিত: 1:40 PM, January 3, 2021

বরিশাল প্রতিনিধি
বাকেরগঞ্জে পরকীয়া সম্পর্ক ও মাদকাসক্তের কারণেই স্ত্রী রুপালী আক্তার মলিকে তালাক দিয়েছে তার স্বামী সহকারি শিক্ষক এনায়েত হোসেন তুরান। এ বিষয়ে তিনি গতকাল স্থানীয় সাংবাদিকদের নিটক তার ৮ বছরের বিষাক্তময় সংসার জীবনের বর্নণা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার পিতা মৃত গয়জদ্দীন হাওলাদার ফরিদপুর ইউনিয়নের রঘুনদ্দী গ্রামের একজন সম্রান্ত মানুষ ছিলেন। এনায়েত হোসেন তুরান ফরিদপুর ইউনিয়নের চর রঘুনদ্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত আছেন। তিনি বিগত ৮ বছর আগে একই উপজেলার দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের দক্ষিণ কাজলাকাঠী গ্রামের মকবুল হোসেন মোল্লার কণ্যা রুপালী আক্তার মলিকে ইসলামী শরীয়াত মোতাবেক বিবাহ করেন।

 

 

বিয়ের পর তার স্ত্রী কিছুদিন শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করলেও মাত্র চার মাসের মাথায় সে আলাদা থাকার জন্য স্বামীর ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। শিক্ষক তুরান তার স্ত্রীর সুখের কথা ভেবে রাস্তার পাশের জমিতে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ব্যয় করে আলাদা বাড়ি নির্মাণ করে দেয়। তুরান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আলাদা বাসায় অবস্থান করার সুবাদে তিনি বিয়ের কিছুদিন পর দেখতে পান তার স্ত্রী মলি তার অগোচরে ইয়াবা সেবন করছে। এমনকি তিনি স্কুলের ক্লাসে থাকার সময় তার স্ত্রী মলি বহিরাগত মাদকাসক্ত পুরুষদের নিয়ে বাসায় ভেতরেই নেশার আসর বসাতো। তুরান আরও জানায়, তার স্ত্রী মলির পিতা মকবুল মোল্লাও নেশাগ্রস্থ।

 

তিনি পুলিশে চাকুরী করাবস্থায় ইয়াবাসহ ধরা পরে চাকুরী থেকে বরখাস্ত হয়। তার স্ত্রী মলি শুধু নেশায় আসক্ত থেকেই ক্ষান্ত ছিলোনা। শিক্ষক তুরান কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, তার স্ত্রী মলির সাথে একাধিক পুরুষের অবৈধ শারিরীক সম্পর্কও ছিলো। তার স্ত্রী মলির পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে প্রায়ই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ সৃষ্টি হতো।একাধিকবার তার বাসায় হাতে নাতে তার স্ত্রীকে পরপুরুষদের সাথে ধরা পরে।

 

 

তিনি শত চেষ্টা করেও তার স্ত্রীকে মাদক সেবন ও পরকীয়া সম্পর্ক থেকে ফেরাতে পারেননি। যে কারনেই গত কয়েক মাস আগে তিনি তার স্ত্রী মলিকে তালাক দেন। তালাক দেয়ার পর গত ১ ডিসেম্বর তার স্ত্রী মলি তাকেসহ ৪ জনের বাকেরগঞ্জ থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তিনিসহ ৪ জন মহামান্য হাই কোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। তার স্ত্রী গত বৃহস্পতিবার রাতে পুনঃরায় মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে তার বন্ধু সজীব মোল্লার নামে থানায় একটি জিডি করেছে।

 

এমনকি তার মাদকাসক্ত স্ত্রী মলি তাকে আরও মামলা দিয়ে হয়রানীসহ হত্যার হুমকি দিচ্ছে। ফরিদপুর ইউপি ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মোঃ শফিকুল ইসলাম জানায়, শিক্ষক তুরানের সাথে এর আগেও তার স্ত্রী মলির দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হলে শালিস বৈঠক হয়। মেয়েটি একটু উগ্র স্বভাবের। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মীর মোঃ মহসিন বলেন, শিক্ষক তুরান ভালো ছেলে। তার স্ত্রী মলি মানুষের কান কথা শোনে। তার পরিবারের আস্কারায় আজকে তাদের মধ্যে এ তালাক। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তুরানের মলি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোশ দাবী করেন।