দেবিদ্বারে নির্জন বিল থেকে মহিলার মরদেহ উদ্ধার।

প্রকাশিত: 2:31 AM, December 27, 2020

নিজস্ব প্রতিনিধি //  

দেবিদ্বারে নির্জন বিল থেকে মহিলার মরদেহ উদ্ধার।

কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের ‘তুলাগাঁও-সাবের পুকুরপাড় বিল’ থেকে হাসনেয়ারা বেগম ওরফে হাসু বেগম (৪৫) নামে এক মহিলার মরদেহ উদ্ধার করেছে দেবিদ্বার থানা পুলিশ।

 

শনিবার বেলা ২টায় দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এস,আই) মো. মাহববুর রহমান এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই লাশ উদ্ধার করেন। হাসনেয়ারা বেগম ওরফে হাসু বেগম সাবের পুকুরপাড় গ্রামের আবুল হাসেম’র প্রথম স্ত্রী।

 

 

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে তুলাগাঁও গ্রামের এক কৃষক গরুর ঘাস কাটতে যেয়ে ‘তুলাগাও-সাবের পুকুরপাড় বিল’র মদীনা মাছের প্রজেক্টের উত্তর পূর্ব কোনে নির্জন বিলের মধ্যে একটি কচুরি ফেনার স্তুুপের উপর মৃত: অবস্থায় তাকে দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

 

 

 

এ সময় মৃতার পায়ে স্পন্সের জুতা ও বুকের উপর একটি চটের ব্যাগ ছিল, পাশেই এক টুকরো কাগজ ও একটি পানি খাওয়ার মগ পড়ে ছিল। মরদেহের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও কানের পাশে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশ ছোরত হাল রিপোর্ট তৈরীর সময় তার শরীরে কেরির টেবলেটের গন্ধ পেয়েছেন, তবে প্রাথমিক ভাবে কোন কারনে কেরির টেবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করছেন বলে ধারনা করা হলেও ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পূর্বে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি উপ-পরিদর্শক (এস,আই) মো. মাহববুর রহমান । নিহতার মরদেহ নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ৩শত থেকে সাড়ে ৩শত মিটার দূরে বিলের জনমানবহীন নির্জন জায়গায় পড়ে ছিল।

 

নিহতার বড় মেয়ে সেলিনা আক্তার জানান, তার পিতা আবুল হাসেম প্রায় ১৫/১৬ বছর পূর্বে সিলেট সদর উপজেলায় ভাড়া বাসায় থেকে রিক্সা চালিয়ে জীবীকা নির্বাহ করে আসছিলেন। প্রায় ১২ বছর পূর্বে ওখানেই তিনি আরো একটি বিয়ে করেন। এ নিয়ে তার মায়ের সাথে পারিবারিক কলহ ছিল।

 

সেলিনা আরো জানান, তার ৪ ভাইকেও তার বাবা সিলেট নিয়ে যান। সেলিনার বিয়ে হয়ে গেলে তার মা’ বাড়িতে একাই থাকতেন। ভাইদের উপার্জিত অর্থেই তার মায়ের ভরন পোষন চলত।

 

 

নিহতার প্রতিবেশী রাজ মিস্ত্রী সুলতান আহমেদ’র স্ত্রী তাছলিমা বেগম জানান, নিহত হাসু বিবি সম্পর্কে আমার চাচি, নিরিবিলি মানুষ ছিলেন, গতকাল বিকেলের পর তাকে আর দেখিনি। ঘরে তালা লাগানো, ওনার গলার একটি রুপার চেইন এবং কানে রিং ছিল। আজ শুনেছি তার সাথে ওই গলার চেইন ও কানের দুল নেই। ওনার ছেলেরা পাশ্ববর্তী ফজলের দোকান থেকে প্রয়োজনীয় টাকা ও খাদ্য সামগ্রী নেয়ার ব্যবস্থা করে যান। মাস শেষে বিকাশে টাকা পাঠাতেন।

 

সুলতানপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. সফিকুল ইসলাম জানান, আবুল হাসেম’র প্রথম স্ত্রীর গর্ভে ১ কণ্যা ও ৪ পুত্র এবং বর্তমান দ্বিতীয় সংসারে ১ পুত্র ও ১ কণ্যা সন্তান রয়েছেন। পূর্বের সংসারের ৪ পুত্র সিলেটে নিয়ে যান। ওখানে ২ছেলে সুমন (২২) ও সোহেল (১৮) বিয়ে করে আলাদা বাসায় থাকেন। জসীম (১৬) ও চানমিয়া (৮) তাদের পিতার সাথে থাকেন।

 

মামলার বিষয়ে দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এস,আই) মো. মাহববুর রহমান জানান, বিষয়টি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি আত্মহত্যা অথবা হত্যা এ বিষয়ে ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসার পূর্বে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা যাবেনা। তবে ইউডি মামলা প্রক্রিয়াধীন।