ঢাকাSunday , 20 June 2021

মোংলায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পেল ৫০ পরিবার

Link Copied!

আলী আজীম,
বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:

বাগেরহাটের মোংলার চাঁদপাই ইউনিয়নের কামারডাঙ্গা মৌজায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ৫০টি দৃষ্টিনন্দন ঘর। প্রতিটি ঘরে রয়েছে ২টি কক্ষ, ১টি রান্নাঘর ও ১টি টয়লেট এবং সামনের দিকে টানা বারান্দা।

২০২০ সালের নভেম্বর মাসে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী টাস্কফোর্স কমিটির মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমলেশ মজুমদারের নেতৃত্বে সেমিপাকা ঘরগুলোর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

প্রথম পর্যায়ে গত ২৩ জানুয়ারি শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মোংলার ভূমিহীন ও গৃহহীন ৫০ পরিবারের মধ্যে মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে ঘর প্রদান করেন।

দ্বিতীয় পর্যায়ে আজ রবিবার (২০জুন) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৫৩,৩৪০ টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে সেমিপাকা একক গৃহ প্রদান করেন।তারই ধারাবাহিকতায় মোংলায়ও ভূমিহীন ও গৃহহীন ৫০ পরিবারের মধ্যে মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে ঘর প্রদান করা হয় আজ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমলেশ মজুমদার জানান, মোংলা উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের কামারডাঙ্গা মৌজায় মোংলা নদীর তীর ঘেঁষে নির্মিত হয়েছে ৫০টি সেমিপাকা ঘর। বঙ্গবন্ধুর কাঙ্খিত ক্ষুদা ও দারিদ্র মুক্ত সোনার বাংলা গড়ার অগ্রযাত্রায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃপ্ত পদক্ষেপ বাগেরহাটের মোংলা উপজেলাও সংযুক্ত রয়েছে।মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি এবং গৃহ প্রদান প্রকল্পের আওতায় জেলা পর্যায়ে ডিসি এবং উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওকে আহ্বায়ক করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এসব গৃহনির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হারুন মল্লিক জানান, লাল, সবুজ এবং নীল টিন, অফ-হোয়াইট রঙের দেয়ালের সমন্বয়ে ঘরগুলো দৃষ্টিনন্দন ও মনোমুগ্ধকর হয়েছে।

ঘর পাওয়ার সুবিধাভোগীর তালিকায় থাকা মোংলার মাকোড়ঢোন এলাকার তৃতীয় লিঙ্গের জাবেদ শেখ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণে মাথা গোজার ঠাঁই পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার জন্য ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাণভরে দোয়া করি, মহান আল্লাহ তায়ালা যেন থাকে সুস্থ রাখেন এবং ভালো রাখেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমলেশ মজুমদার বলেন,আশ্রয়ণ প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী গ্রোথ সেন্টারের কাছাকাছি এটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।যার পাশে পশুর নদী,মোংলা ইপিজেড,মোংলা বন্দর ও বেপজাসহ বহু কলকারখানা রয়েছে যার ফলে উপকারভোগীদের উপার্জনের রাস্তা তৈরী হবে।খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার এমপি,মোংলা থানা পুলিশ এবং উপজেলা পরিষদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শে স্বচ্ছতা এবং সততার সঙ্গে শতভাগ মান বজায় রেখে গৃহনির্মাণ কাজ সর্বশেষ পর্যায়ে।

 

তিনি আরো বলেন,প্রতিটি ঘর নির্মাণে খরচ হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে উপজেলায় যে ৫০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে, এর বাইরে আরও ৭৫টি ঘর নির্মাণের কাজ চলছে।

 

উল্লেখ্য, সরকার দুই ক্যাটাগরিতে ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি পরিবারের তালিকা তৈরি করেছে। এর মধ্যে ভূমিহীন ও গৃহহীন ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১ পরিবার এবং জমি আছে কিন্তু ঘর নেই এমন রয়েছে ৫ লাখ ৯২ হাজার ২৬১টি পরিবার। যাদের সবাইকে পর্যায়ক্রমে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে সেমিপাকা ঘর উপহার হিসেবে প্রধান করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

প্রকল্প বাস্তবায়নে পৃষ্ঠপোষকতা করেন,খুলনা সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আঃ খালেক,বন,পরিবেশ ও জলবায়ূ পরিবর্তণ মন্ত্রনালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার এমপি,মোংলা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার,ভাইস-চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন,মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান কামরুন্নাহার হাই,মোংলা পোর্ট পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আঃ রহমান,চাঁদপাই ইউপি চেয়ারম্যান মোল্যা মোঃ তারিকুল সহ সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধি।

error: Content is protected !!