ঢাকাTuesday , 7 September 2021
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইসলামাবাদের নারী নির্যাতন মামলার আসামি রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদের এন আইডি বাতিলের আবেদন।।

Link Copied!

কক্সবাজার ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের আউলিয়াবাদ এলাকার মৃত এজাহার মিয়ার ছেলে বহু অপকর্মের হোতা , নারী নির্যাতন মামলার আসামী রোহিঙ্গা নূর মোহাম্মদ আনচারির (৩৮) এন আইডি বাতিলের আবেদন করা হয়েছে।

সোমবার ( ৬ সেপ্টেম্বর) একই এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দু শুক্কুরের ছেলে সাজ্জাদুল করিম কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার বরাবরে লিখিত এ আবেদন করেন ।

 

আবেদনে জানা যায়, অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদ আনচারী একজন রোহিঙ্গা নাগরিক। দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জালিয়াতি ও প্রতারনার মাধ্যমে সাবেক এক এম ইউপির সহযোগিতায় এন আইডি অর্জন করতে সক্ষম হয়। ভোটার কালীন সময়ে তৎকালীন চেয়ারম্যান নুরুল হকের পক্ষে দ্বায়িত্বে থাকা লোকজন এ রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদ আনচারীকে বার বার লাইন থেকে বের করে দিলে ও তৎকালীন মেম্বারের সহযোগিতায় জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। বর্তমানে এ রোহিঙ্গা আনচারির অপকর্মে এলাকার লোকজন অতিষ্ট হয়ে এন আইডি বাতিলের অভিযোগ উঠলে ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহলে দেন দরবার শুরু করে। অভিযোগ আরো জানা যায়, সরজমিনে তদন্ত করলে এ রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদ আনচারীর রোহিঙ্গা নাগরিকের সত্যতা মিলবে এবং এলাকার শত শত লোক সাক্ষী দেবে ।

 

উল্লেখ্য , ৩১ আগষ্ট কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরুং হাজী পাড়া এলাকার আব্দুল মালেকের কন্যা জুলেখা বেগম (২৪) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন এ রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদ আনচারীর বিরুদ্ধে।মামলার এজাহারে জানা যায়, ২৭/০৮/২১ইং রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কক্সবাজার হোটেল মোটেল জোনের সমুদ্র কান্তা নামের এক হোটেলের ১০৫নং কক্ষে প্রথমে নূর মোহাম্মদ আনচারি ও তার সহযোগী নূরুল আবছার পালাক্রমে রাতভর ধর্ষণ করে পরদিন সকাল আনুমানিক নয়টার দিকে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যথাযথ চিকিৎসা শেষে ৩১/০৮/২০২১ইং তারিখ সকাল ১০টায় কক্সবাজার জেলা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নং ১এ বাদিনী স্ব শরীরে হাজির হয়ে মামলাটি দায়ের করে।

 

বিজ্ঞ আদালত মামলা (মামলা নং ২১৬/২১) আমলে নিয়ে পিবিআইকে আগামী ১২/১০/২০২১ইং তারিখ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য আদেশ দেন।

মামলায় বাদিনীসহ ৫জনকে স্বাক্ষী করা হয়েছে। যথাক্রমে (১) বাদিনী, (২) হোটেল ম্যানেজার নজিরুল ইসলাম, (৩) খরুলিয়া চরপাড়ার মোহাম্মদ আলীর ছেলে বাবুল, (৪) কলাতলীর ছৈয়দ আকবরের ছেলে আইয়ুব ও (৫) নুনিয়া ছড়ার ভুলু মিয়ার মেয়ে জোছনা আক্তার।

 

মামলার বাদী জুলেখা বেগম জানান, তাকে ইসলামাবাদের নূর মোহাম্মদ আনচারি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সী বীচে বেড়াতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে রাতে হোটেল সমুদ্র কান্তা ১০৫নং কক্ষে নিয়ে গিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে।
এলাকার লোকজন জানান, নুর মোহাম্মদ আনচারীর বিরুদ্ধে এধরনের আরো অভিযোগ আছে। কিছুদিন আগে এলাকায় তাকে এ ধরনের অভিযোগে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রেখে ছিল পরে তাকে টিনের চাল কেটে বের করে স্থানীয়রা। এলাকার লোকজন আরো জানান, সে মায়ানমার থেকে এসে প্রথমে ঈদগাঁও ইউনিয়নের মাইজপাড়া এরপর ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পাহাশিয়াখালী ও পরে আওলিয়া বাদে অবস্থান করে। দুধর্ষ এ নুর মোহাম্মদ আনচারী আগে জামাত শিবিরের সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িত থাকলেও বর্তমানে হাইব্রিড আওয়ামী লীগের সাথে দহরমমহরম। এলাকাবাসী এন আইডি বাতিল করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এ চিহ্নিত রোহিঙ্গা অপরাধীর।

error: Content is protected !!