ঢাকাSaturday , 21 August 2021
আজকের সর্বশেষ সবখবর

২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলায় শহীদদের মাগফিরাত কামনার্থে দেবীদ্বারে মিলাদ মাহফিল ও তাবারুক বিতরণ

Link Copied!

মোঃ বিল্লাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি // 

কুমিল্লা দেবীদ্বারে আমেরিকা প্রবাসী ডাঃ ফেরদৌস খন্দকারের উদ্যোগে ২১ শে আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলায় শহীদদের স্মরণে স্মরণসভা স্বাধীনতা বিরোধীরা ২১শে আগস্ট সৃষ্টি করেছিল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে নেতৃত্বশূন্য করার জঘন্য অপচেষ্টায়।

 

২১ শে আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলায় শহীদদের স্মরণে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের প্রধান অতিথি আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় সভাপতি ও আওয়ামী লীগের কুমিল্লা (উঃ) জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, আজ থেকে ১৭ বছর আগে, ২০০৪ সালের এই দিনে গ্রেনেডের বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লাশ, আহত মানুষের আর্তনাদ আর কাতর ছোটাছুটিতে তৈরি হয় বিভীষিকাময় মুহূর্ত। এই ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল গোটা জাতি।

 

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশে অতর্কিতে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। মারা যান আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন। আহত হন শেখ হাসিনাসহ পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী। সাংবাদিকেরাও আহত হন।

 

প্রধান অতিথি মোঃ হুমায়ুন কবির আরো বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের কালরাতের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে সংগঠনের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ দলের প্রথম সারির নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যেই ওই ঘৃণ্য হামলা চালায় ঘাতক চক্র।

 

তখন ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার। সেদিন ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী’ শান্তি সমাবেশের আয়োজন করেছিল তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশের আগে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে স্থাপিত অস্থায়ী ট্রাকমঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা শেষ হওয়ার পরপরই তাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা শুরু হয়। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে থাকে একের পর এক গ্রেনেড। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহুর্মুহু ১৩টি গ্রেনেড বিস্ফোরণের বীভৎসতায় মুহূর্তেই মানুষের রক্ত-মাংসের স্তূপে পরিণত হয় সমাবেশস্থল। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ পরিণত হয় এক মৃত্যুপুরীতে।

 

স্প্লিন্টারের আঘাতে মানুষের হাত-পাসহ বিভিন্ন অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। সভামঞ্চ ট্রাকের চারপাশে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায় রক্তাক্ত নিথর দেহ। লাশ আর রক্তে ভেসে যায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের সামনের পিচঢালা পথ।

 

নিহত ও আহত ব্যক্তিদের জুতা-স্যান্ডেল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। ভেসে আসে শত শত মানুষের গগনবিদারী আর্তচিৎকার। বেঁচে থাকার প্রাণপণ চেষ্টারত মুমূর্ষুদের কাতর-আর্তনাদসহ অবর্ণনীয় মর্মান্তিক সেই দৃশ্য।

 

ওই দিন শুধু গ্রেনেড হামলাই নয়, সেদিন শেখ হাসিনার গাড়ি লক্ষ্য করেও চালানো হয় ছয়টি গুলি। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও তিনি আহত হন, তার শ্রবণশক্তি চিরদিনের মতো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার পরপরই শেখ হাসিনাকে কর্ডন করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তার তৎকালীন বাসভবন ধানমন্ডির সুধা সদনে। ২১ আগস্টের রক্তাক্ত হামলার ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১৬ জন। পরে সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪ জনে। রক্তাক্ত-বীভৎস ওই ভয়াল গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমান ছাড়াও সেদিন নিহত হন ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ, হাসিনা মমতাজ রিনা, রিজিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), রতন শিকদার, মোহাম্মদ হানিফ ওরফে মুক্তিযোদ্ধা হানিফ, মোশতাক আহমেদ, লিটন মুনশি, আবদুল কুদ্দুছ পাটোয়ারী, বিল্লাল হোসেন, আব্বাছ উদ্দিন শিকদার, আতিক সরকার, মামুন মৃধা, নাসির উদ্দিন, আবুল কাসেম, আবুল কালাম আজাদ, আবদুর রহিম, আমিনুল ইসলাম, জাহেদ আলী, মোতালেব ও সুফিয়া বেগম। গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের সঙ্গে যুদ্ধ করে ঢাকার মেয়র মোহাম্মদ হানিফসহ আরো কয়েকজন পরাজিত হন।

 

‘শেখ রাসেল ফাউন্ডেশন’ ইউএসএ শাখার সভাপতি আমেরিকা প্রবাসী মানবতার ফেরিওয়ালা করোনা যোদ্ধা ডাঃ ফেরদৌস খন্দকার’র সহযোগীতায় এবং “পাশে আছি কোভিড-১৯ সেবা” কন্ট্রোল রোমের উদ্যোগে শনিবার বিকেল ৩টায় উপজেলার বল্লভপুর মাধ্যমিক উচ্চবিদ্যালয় মিলনায়তনে ওই স্মরণসভা ও দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ মুজিবুল ইসলাম মান্নান চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে এবং “পাশে আছি কোভিড-১৯ সেবা” ইনচার্জ শাহিনূর আক্তার লিপির সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় সভাপতি ও আওয়ামী লীগ কুমিল্লা (উঃ) জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ হুমায়ুন কবির, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, আ’লীগ নেতা লুৎফর রহমান বাবুল, মোঃ মাহববুর রহমান মূন্সী, মোঃ মুকবল হোসেন মুকুল।

 

অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশনেন, আওয়ামীলীগ নেতা হাজী মোসলেহ উদ্দিন মানিক ভূঁইয়া, সূজিত পোদ্দার, মোঃ সালাউদ্দিন আহমেদ, মোঃ তোফাজ্জল হোসেন মাষ্টার, “পাশে আছি কোভিড-১৯ সেবা” সংগঠক মাহববুব আলম, আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া টিটু, মৈত্রী ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ মিতা চৌধূরী, মনিরুল ইসলাম, আব্দুর রহমান ভূঁইয়া বাবলু, শামিমা আক্তার রীমা, শারমিন আক্তার প্রমূখ। এর আগে দোয়া মাহফিল ও তাবারুক বিতরণের আয়োজন করা হয়।

error: Content is protected !!