ঢাকাFriday , 20 August 2021
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশাল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রসঙ্গে,

Link Copied!

জাহিদুল ইসলাম ///

সারাদিন বরিশাল ঘুরে গতকাল রাতে সদর ইউ এন ও বনাম মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ গ্রুপের মধ্যে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রসঙ্গ অনেক নেপথ্যে তথ্য উদঘাটন করতে সময় ব্যায় করেছি। কিন্তু জাহাজের আরদালি হয়ে জাহাজের খবর প্রকাশ হয়তো অনেকেরই মনঃপূত হবেনা। তা যেনেও এ প্রসঙ্গে কিছু বাস্তবতা তুলে ধরা পেশাগত জীবনের একটা নৈতিক দায়িত্ব মনে করেই লিখতে হলো। সেটা হচ্ছে বহুকাল ধরেই বরিশাল সদর উপজেলাটি অলিখিত ভাবেই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ইশারা ইঙ্গিতেই পরিচালিত হয়ে আসছে।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আত্মীয় ভাই সুবাদে পুরো দক্ষিণ বাংলার একছত্র অধিপত্যে বলতে এ অঞ্চলের আওয়ামী লীগের রাজনীতি তিনিই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। তা সত্বেও বরিশাল সদর উপজেলাটিতে তার একচ্ছত্র অধিপত্যে অদ্য অবধি প্রতিষ্ঠিত হয়নি,

 

এছাড়া সাধারণ মানুষ তার অলিখিত অধিপত্যে বজায় রাখার বিষয় টি ভালো চোখে মেনে নিতে পারেনি, ইতিপূর্বে জনপ্রিয় মেয়র হিরন জীবিত অবস্থায়ই এ নিয়ে প্রকাশ্য অনেক বাদঅনুবাদে জড়িয়ে পড়ছিলেন। ঠিক সে মুহূর্তেই তার অকাল মৃত্যুতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন হাল ধরার মত তেমন জনপ্রিয় কেউ না থাকায় তারই সহধর্মিণী জেবুন নেশা আফরোজকে ম্যনেজ করে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে স্বপথ নেন বর্তমান মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ, যুব সমাজের কাছে বিপুল জনপ্রিয় এই নেতা, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হলেও কার্যত পুরো দক্ষিণ বাংলার একছত্র অধিপত্যে মূলত তারই নিয়ন্ত্রণে, এত সত্বেও বরিশাল সদর উপজেলাটি কিছুতেই বসে রাখতে পারছেন না, এখানের বর্তমান মাননীয় সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল জাহিদ ফারুক শামীমকে কোনঠাসা করে রাখতে তার অনুসারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে, তার লাগানো ব্যানার পোস্টার ছিড়ে ফেলা থেকে শুরু করে এমন কোনো হেন কাজ নেই যা চলছে না। বলতে গেলে একজন প্রতিমন্ত্রী হয়ে ও এই স্থানে একটা চেয়ারম্যানের ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ নেই এই আসনের সাংসদ সদস্যর, তারপর ও থেমে থাকেনি তার প্রতি অভিচার, ১৫ আগষ্ট উপলক্ষে তার লাগানো কিছু ব্যানার পোস্টার রাতের অন্ধকারে সড়িয়ে নিতে গেলে, বিচক্ষণ ইউ এন ওর দৃষ্টিতে এলে তিনি রাতে এই অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত নেতাকর্মীদের বাঁধা দিলে, বাক বিতন্ডা শেষে হাতাহাতি ঘটনা ঘটলে উপস্থিত আনসার সদস্যরা ইউ এন ওর নির্দেশে ওদের উপর হামলা করে।

 

এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ তার বিপুল সংখ্যক কর্মী বাহিনী নিয়ে তৎক্ষনাৎ ইউ এন ওর বাড়ি ঘেরাও করে রাতভর তান্ডব চালাতে শুরু করলে সংবাদ পেয়ে মডেল থানা পুলিশের ওসি নুরুল ইসলামের নেতৃত্ব বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সর্বাত্বক প্রচেষ্টা চালান। এমন কি পরিস্থিতি সামলাতে গুলি চালাতে শুরু করলে, অনেকেই কেটে পরতে শুরু করে, ওই মূহুতে গুজব ছড়িয়ে পরে মেয়র গুলিবিদ্ধ হয়েছে, তাতে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে রুপ ধারণ করে। এ ঘটনায় ইউ এন ওর বাসায় ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি সহ তিন জন আনসার সদস্য গুরুত্বর আহত হন। ঘটনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্র লীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। বর্তমানে সমগ্র বরিশাল জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজমান এর মধ্যে চলছে নেতাকর্মীদের ধরপাকর থেকে শুরু করে পুলিশ র্যাব ও বিজিবির টহল। এছাড়াও রাতভর মহাসড়কে গাড়ি ফেলে বন্ধ করে দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করে চরম ভোগান্তির মধ্যে ফেলেন। এসব কিসের আমালত বহন করে। কিসের স্বার্থ আজকে এত বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের রক্তে রঞ্জিত হলো, আর প্রশাসনকেই বা কেনো দলীয় নেতা-কর্মীদের উপর হামলা চালাতে হলো। এর জবাব জানতে আমাদের আরও হয়তো কিছুকাল অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু সাধারণ নেতাকর্মীদের রক্তের দাগ এ অপূরনীয় ক্ষতির কোনো বিনিময় হবে বলে মনে হয়না।

error: Content is protected !!