ঢাকাThursday , 12 August 2021
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ধর্মপাশায় পাঠাগার নিয়ে জালিয়াতি

Link Copied!

এম এম এ রেজা পহেল, ধর্মপাশা( সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার মধ্যনগর থানার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচটি পাঠাগার করেছেন প্রতিষ্ঠাতা নিকসন তালুকদার। সরকারী বরাদ্দ পাওয়ার জন্য শুধু কাগজপত্রে পাঠাগারগুলো অনেক পুরোনো দেখানো হয়েছে। সরকারি খাতায় এসব পাঠাগার ‘ক’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু বাস্তবে প্রেক্ষাপট ভিন্ন। যত্রতত্র সাইনবোর্ড টানিয়ে, ঘরের শয়নকক্ষ এমনকি গোয়ালঘরে কিছু বইপত্র রেখে দেখানো হচ্ছে এসব পাঠাগারের কার্যক্রম। কে, কোন পাঠাগারের সভাপতি-সম্পাদক, তা নিয়েও অস্পষ্ট বক্তব্য প্রতিষ্ঠাতার। তিনি হলেন নিক্সন তালুকদার,তার বাড়ি চামরদানী ইউনিয়নের কাহালা গ্রামে। সরকারি বরাদ্দ হাতিয়ে নিতেই বিভিন্ন স্থানে এমন পাঁচটি নামসর্বস্ব পাঠাগার করেছেন তিনি।

নিক্সন তালুকদারের নিজ বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার চামরদানি ইউনিয়নের কাহালা গ্রামে কাহালা জনকল্যাণ পাঠাগারটি ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত বলে জানানো হয়। এ ছাড়া তিনি ধর্মপাশার বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ঘাসী গ্রামে তার বড় বোন রিনা তালুকদার ও মধ্যনগর ইউনিয়নের জমশেরপুর গ্রামে তার ফুফাতো ভাই উদ্দ্যেশ সরকারের বসতঘরে পৃথক দুটি নামসর্বস্ব পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেছেন।

ঘাসী গ্রামে কাব্য প্রজ্ঞা পারমিতা তালুকদার জনকল্যাণ পাঠাগার ও জমশেরপুর গ্রামে নিক্সন তালুকদার জনকল্যাণ পাঠাগার ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে সুনামগঞ্জ জেলা গণগ্রন্থাগারে তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। অথচ উদ্দ্যেশ সরকারের ছেলে সাগর সরকার জানিয়েছেন, তাদের বাড়িতে পাঁচ-সাত বছর ধরে পাঠাগারের কার্যক্রম চলছে।অন্যদিকে, ঘাসী গ্রামে রিনা তালুকদারের বাড়িতে যে পাঠাগারের কার্যক্রম দেখানো হয়েছে, তাও কয়েক বছর ধরে নামমাত্র চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। যে বাড়িতে পাঠাগার দেখানো হয়েছে ৪০ বছর আগে,অথচ সেই বাড়িটি করেছে গত বার বছর আগে। সোমবার সকালে সরেজমিন রিনা তালুকদারের বাড়িতে গিয়ে শুধু ঘরের বারান্দায় পাঠাগারের একটি সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা যায়। কোনো চেয়ার-টেবিল বা আসবাবপত্র দেখা যায়নি। ঘরের ভেতরে শয়নকক্ষের এক কোণে একটি নড়বড়ে শেলফ এ কিছু বই পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

নিক্সন তালুকদারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি গোয়ালঘরে কাহালা জনকল্যাণ পাঠাগারের সাইনবোর্ড ঝুলছে। গোয়ালঘরের অর্ধেক অংশে গরু রাখার স্থান ও অপর অংশে নোংরা পরিবেশে কিছু বই রাখা হয়েছে। এ পাঠাগারের সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে এক লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া কোনো পাঠাগারেই বই ও পাঠক সংখ্যার কোনো তথ্য, রেজিস্ট্রার খাতা পাওয়া যায়নি।

এদিকে ২০২০-২১ অর্থবছরে সুনামগঞ্জে ১০টি বেসরকারি পাঠাগারে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি গ্রন্থাগারে অনুদান প্রদান সংক্রান্ত ‘অন্যান্য অনুদান’ খাত থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ধর্মপাশার কাব্য প্রজ্ঞাপারমিতা তালুকদার জনকল্যাণ পাঠাগার, নিক্সন তালুকদার জনকল্যাণ পাঠাগার ও কাহালা জনকল্যাণ পাঠাগার ‘ক’ শ্রেণিতে প্রতিটি পাঠাগারে ৫৬ হাজার টাকা করে বরাদ্দ পেয়েছে। তবে এ ব্যাপারে নিক্সন ছাড়া অন্য কেউ জানে না।ধর্মপাশা ছাড়াও জেলার তাহিরপুরে উষা-সুধীর তালুকদার জনকল্যাণ পাঠাগার ও বিশ্বম্ভরপুরে নেপাল শিল্পী আর্য তালুকদার জনকল্যাণ পাঠাগার নামে আরও দুটি পাঠাগার রয়েছে নিক্সনের। তার তাহিরপুরের পাঠাগার ‘ক’ ক্যাটাগরিতে ৫৬ হাজার ও ‘গ’ ক্যাটাগরিতে বিশ্বম্ভরপুরের গাঠাগার ৩৫ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছে এ অর্থ বছরেই।

নিক্সন বলেন, ‘৫টি পাঠাগারের কার্যক্রম একসাথে আমি চালাচ্ছি । কাজের সুবিধার্থে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা সন আগে দেখানো হয়েছে। বরাদ্দের ব্যাপারে সংশ্নিষ্টদের জানানো হয়েছে।’

ইউএনও মুনতাসির হাসান বলেন, পাঠাগার প্রতিষ্ঠায় যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

## এম এম এ রেজা পহেল।

error: Content is protected !!