ঢাকাTuesday , 16 November 2021
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈশ্বরগঞ্জের অপহৃত ভিকটিম নাছরিনকে উদ্ধার করল পিবিআই পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।

Link Copied!

গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহঃ
গত ১৫ নভেম্বর ২০২১ খ্রিঃ রাত অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ী থানাধীন জরুন এলাকা হতে অপহৃত ভিকটিম মোছাঃ নাছরিন আক্তারকে উদ্ধার করে পিবিআই, ময়মনসিংহ।

ভিকটিম মোছাঃ নাছরিন আক্তার (১৩), পিতা-মোঃ জালাল উদ্দিন, সাং-সাধুর গোলা, থানা-ঈশ্বরগঞ্জ, জেলা-ময়মনসিংহ, ঈশ্বরগঞ্জ থানাধীন মাইজবাগ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। ভিকটিম নাছরিন স্কুলে যাওয়া আসার পথে বিবাদী শরিফ (১৯), পিতা-মোঃ সেলিম, সাং-সাধুর গোলা, থানা-ঈশ্বরগঞ্জ, জেলা-ময়মনসিংহ প্রায় সময় ভিকটিম নাছরিনকে উত্যক্ত করত। ভিকটিম বিষয়টি তার বাবা-মাকে জানালে তারা বিবাদী শরিফের অভিভাবককে ঘটনাটি জানালে তারা বিবাদী শরিফকে শাসন না করে উল্টো নীরব ভূমিকা পালন করে।

গত ১২/০৯/২০২১ খ্রিঃ ভিকটিম নাছরিন বাড়ীতে একা থাকার সুযোগে বিবাদী শরিফ অন্যান্য বিবাদীদের সহযোগিতায় ভিকটিম নাছরিনকে জোরপূর্বক তার বাড়ী হতে অপহরণ করে নিয়ে যায়। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের বাবা জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে বিজ্ঞ বিচারক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু মোকদ্দমা নং-১৬৮/২০২১, ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সং/০৩) এর ৯(১)/৭/৩০ দায়ের করেন।

ডিআইজি পিবিআই জনাব বনজ কুমার মজুমদার, বিপিএম (বার), পিপিএম এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই ময়মনসিংহ ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার, জনাব গৌতম কুমার বিশ্বাস এর সার্বিক সহযোগিতায় মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ লোকমান হোসেন মামলাটি তদন্ত করেন।

পুলিশ সুপার, জনাব গৌতম কুমার বিশ্বাস এর দিক নির্দেশনায় ও তত্ত্বাবধানে তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিমের অবস্থান সনাক্ত পূর্বক গত ১৫/১১/২০২১ খ্রিঃ রাত অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ী থানাধীন জরুন এলাকা হতে অপহৃত ভিকটিম মোছাঃ নাছরিন আক্তারকে উদ্ধার করেন।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলার পিবিআই এর এসপি জনাব গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর অপহরণের ঘটনা। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে গত ০৫/১০/২০২১ খ্রিঃ পিবিআই, ময়মনসিংহ জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআই কর্তৃক মামলাটির তদন্তভার গ্রহণের পর অত্র মামলার ভিকটিম মোছাঃ নাছরিন আক্তারকে উদ্ধারের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।

এক পর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিম মোছাঃ নাছরিন আক্তারকে গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ী থানাধীন জরুন এলাকা হতে উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, বিবাদী শরিফ ভিকটিম নাছরিন আক্তারের ফুফাতো ভাই। শরিফ প্রায় সময় ভিকটিম নাছরিন আক্তারকে উত্যক্ত করত এবং প্রেমের প্রস্তাব দিত। ভিকটিম নাছরিন বিবাদী শরিফের প্রেম প্রত্যাখান করে।

উক্ত আক্রোশে বিবাদী শরিফ অন্যান্য বিবাদী জুয়েল ও আলীর সহায়তায় গত ১২/০৯/২১ খ্রিঃ সকাল ১০.০০ ঘটিকার দিকে ভিকটিম নাছরিন স্কুলে যাওয়ার পথে জোরপূর্বক সিএনজিতে করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সে ভিকটিমকে গাজীপুরে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিবাহ করে এবং কোনাবাড়ী থানাধীন জরুন এলাকায় একটি বাড়ীতে আটক রাখে।

অদ্য ১৬/১১/২০২১ খ্রিঃ উদ্ধারকৃত ভিকটিম মোছাঃ নাছরিন আক্তারকে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হলে সে স্বেচ্ছায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সং/০৩) এর ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে।