ঢাকাMonday , 10 January 2022
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নন্দীগ্রামে ফসলী জমিতে চলছে পুকুর খনন

Link Copied!

রাজু আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার //

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় অনুমোদন ছাড়াই মাছ চাষের জন্য ফসলি জমিতে ইচ্ছেমতো পুকুর খনন করা হচ্ছে।আর পুকুর খনন করার পর অতি লোভে তোলা মাটি বিক্রি করছে এক শ্রেনীর অবৈধ মাটি ব্যবসায়ী এতে ক্রমেই কমছে চাষের জমি।এছাড়া রাস্তায় মাটি পড়ে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীন সড়ক।

অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন জায়গায় পুকুর খনন হলেও এখনও নিরব ভুমিকায় রয়েছে প্রশাসন।এখন পর্যন্ত কোথাও কোন অভিযান চালাতে দেখা যায়নি।ফলে নির্ভয়ে মাটি ব্যবসায়ীরা ফসলী জমি খনন করে মাটি বিক্রি করেই চলছে।

জানা গেছে,নন্দীগ্রাম উপজেলার ৫ ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে ২২ হাজার হেক্টর ফসলি জমি আছে।শ্রেণিভেদে প্রায় সব জমিতেই সারা বছরই কোনো না কোনো ফসলের আবাদ হয়।

উপজেলার ডেরাহার,সিংজানি,থালতা মাঝগ্রাম,দাসগ্রাম, ত্রিমোহনী,দামগাড়া, গোছন,বাদলাশনসহ বিভিন্ন গ্রামে দিন দিন ফসলি জমির পরিমাণ কমছে আর বাড়ছে পুকুরের সংখ্যা।এই উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার পুকুর রয়েছে।এরপরও ঊর্বর ফসলি জমি কেটে আশঙ্কা জনকহারে পুকুর খনন করা হচ্ছে।

ফসল উৎপাদন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ঝামেলাহীন অর্থ উপার্জনের চেষ্টায়ই ফসলি জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে বলে স্থানীয় অনেক কৃষক জানিয়েছেন।একই সাথে চলছে জলাশয় দখল ও ভরাট।

আর ড্রাম ট্রাকের মাটি আর ধুলার আস্তরণে বেহাল হচ্ছেন গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলো।এ কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি।একের পর এক খনন করা পুকুরে গিলে খাচ্ছে ফসলি জমি।

দাসগ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান,তার জমিতে ধান ভাল হয় না।এ জন্য তিনি ফসলি জমিতে পুকুর খনন করছেন।তার মতো অনেকে আবার পুকুর খনন করে ফসলি জমি মাটি দিয়ে উঁচু করে গাছের বাগান করছেন।

কৃষকরা জানান,উৎপাদনে যথেষ্ট শ্রম ব্যয় করেও কাঙ্খিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।তাই লাভের আসায় পুকুর খনন করে তুলনামূলক ঝামেলাহীন অর্থ উপর্জনের চেষ্টা করছেন।এ সব পুকুরে তারা নিজেরা মাছ চাষ করছেন, আবার কেউবা অর্থের বিনিময়ে মাছ চাষিদের কাছে লিজ দিচ্ছেন।

এদিকে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণে বর্ষা মৌসুমে পানি নিস্কাশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বাড়ে জনদূর্ভোগ।

মাছ চাষি আরাফাত রহমান জানান,এই শুকনো মৌসুমে পুকুর তৈরি করা অনেকটা সহজ।তাই এখন তারা পুকুর তৈরি করছেন মাছ চাষের জন্য।আগে পুকুর খনন করতে অনেক সময় লাগতো।কিন্তু এখন প্রযুক্তির ব্যবহারে ভেকু দিয়ে দ্রুত একটি পুকুর খনন করা যায়।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আদনান বাবু বলেন, প্রতিবছরই বাড়ছে পুকুরের পরিধি, কমে যাচ্ছে ঊর্বর আবাদি জমি।একই সঙ্গে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন এবং সরকারি জলাশয় দখল ও ভরাট করায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

জানতে চাইলে নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিফা নুসরাত বলেন,অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

ভোরের কুমিল্লা/রাজু